ই-রিটার্নে ভোগান্তি সমাধানে কাজ করছে এনবিআর

২১ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:২৫  

দেশে প্রায় এক কোটি টিআইএনধারীর থাকলেও নিয়মিত রিটার্ন দিচ্ছেন মাত্র ৩৬ হাজার জন। একইভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে দক্ষতার অভাব এবং অনভ্যস্ততায় ই-রিটার্নে করদাতাদের আগ্রহ কম। একইভাবে  জ্যেষ্ঠ অনেক সরকারি কর্মচারী ই-রিটার্ন দিতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন এবং এনবিআরের ওয়েব পেজ লোডিংয়ে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমন পরিস্থিতির উত্তরণে অনলাইনে আয়কর গ্রহণ ও রিটার্ন দাখিলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ইতিমধ্যেই কয়েক ধরনের পেশার ক্ষেত্রে ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অটোমেশনের অংশ হিসেবে অনলাইন রিটার্ন থেকে পিছু হটছে না এনবিআর। প্রশিক্ষণ, কল সেন্টার, প্রচারসহ নানান উপায়ে করদাতাদের উদ্ভুদ্ধ করছে রাজস্ব আদায়ে নিয়োজিত সংস্থাটি।

গত ৩ নভেম্বর থেকে কর মেলার আদলে আয়কর তথ্যসেবা মাস শুরু হয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের ৪১ কর অঞ্চলের ৮৬৯ সার্কেলে অফিস চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন কর সেবা দেওয়া হচ্ছে করদাতাদের। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কর অঞ্চল ৪, ৭, ৮ ও ১২ ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি কর্মচারীসহ কয়েক পেশার ক্ষেত্রে অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক করায় আয়কর তথ্যসেবা মাসে করদাতার সংখ্যা তুলনামূলক কম।

তাই সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সামনে ১২ তলা ভবনে কর অঞ্চল-১ এর অফিসে অনলাইনে কীভাবে রিটার্ন দাখিল করা যায়, সে বিষয়টি হাতে-কলমে দেখিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

এ নিয়ে কর অঞ্চল-১ এর কমিশনার মো. লুৎফুল আজীম বলেন, হয়রানি কমিয়ে করদাতাদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এনবিআরও করদাতাদের হয়রানি কমাতে চায়। এ জন্য তাদের অনলাইনে যেতে হবে, এর বিকল্প নেই। করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে হয়রানির অভিযোগ কমে যাবে।

এদিকে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারেন। এ বছর রিটার্ন জমার সময় এরই মধ্যে একমাস বাড়ানো হয়েছে। সেই হিসাবে রিটার্ন জমার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর। প্রতি কর্মদিবসে এখন গড়ে ৮ হাজার ই-রিটার্ন জমা দেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে রিটার্ন জমায় করদাতাদের প্রবল আগ্রহ দেখে এনবিআর আশা করছে, চলতি অর্থবছরে অনলাইনে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ লাখ রিটার্ন জমা পড়বে। এ বিষয়ে এনবিআরের স্লোগান হচ্ছে, ‘না দাঁড়িয়ে লাইনে, রিটার্ন দিন অনলাইনে’।

অপরদিকে গত ১৭ নভেম্বর অনলাইনে রিটার্ন জমা আরও সহজ করতে আগামী বছর আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য মোবাইল অ্যাপ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। 

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, এখন ঘরে বসেই অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া, রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র ও কর সনদ সংগ্রহ, ই-পেমেন্ট করা এবং ই-রিটার্ন ভেরিফাই করা সম্ভব হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যেকোনও করদাতা রিটার্ন জমার পাশাপাশি কর পরিশোধ করতে পারছেন। এ ছাড়া একই অনলাইন ব্যবস্থা থেকে দাখিল করা রিটার্নের কপি, প্রাপ্তি স্বীকারপত্র, আয়কর সনদ, কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ডাউনলোড ও প্রিন্ট করতে পারছেন করদাতারা।